রাতে দু-তিনবার ঘুম ভেঙে বাথরুমে ছুটে যাওয়া এখন অনেকেরই নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালে উঠে শরীর ভারী, মাথা ঝিমঝিম, দিনটা শুরু হয় ক্লান্তি দিয়ে। আপনিও কি সেই তালিকায় আছেন?
ভালো খবর হলো— এটা বয়সের সঙ্গে অবধারিত নয়। ছোট ছোট কয়েকটি অভ্যাস বদলে অনেকেই আবার শান্তির রাত কাটাতে শুরু করেছেন।
রাতে কেন বারবার ঘুম ভাঙে?
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের অনেক কিছুই আস্তে আস্তে বদলায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থির স্বাভাবিক পরিবর্তন, মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের তারতম্য ও পেলভিক মাসলের দুর্বলতা— এসব কারণে মূত্রথলি (ম bladder) আগের মতো লম্বা সময় বন্ধ রাখতে পারে না।
তবে অনেক সময় আমাদের সন্ধ্যার অভ্যাসগুলোই এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
সন্ধ্যায় এই তিনটি বিষয় এড়িয়ে চলুন
১. রাত ৭টার পর হঠাৎ অনেক পানি খাওয়া ২. সন্ধ্যায় চা, কফি, চকোলেট বা ক্যাফেইনযুক্ত কোনো খাবার ৩. খুব ঠান্ডা পানীয় (ফ্রিজের পানি বা আইসড্রিংক)
এগুলো বদলে সন্ধ্যায় হালকা গরম পানীয় নেওয়া অনেক বেশি আরামদায়ক।
রান্নাঘর থেকেই সমাধান— সহজ কয়েকটি উপায়
১. কুমড়োর বীজ (Pumpkin Seeds) প্রোস্টেট ও মূত্রথলির স্বাস্থ্যের জন্য ঐতিহ্যবাহী একটি উপাদান। প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে এক চামচ কুমড়োর বীজ (কাঁচা বা হালকা ভাজা) খেয়ে দেখুন। স্বাদও ভালো লাগবে।
২. আদা-দারচিনির গরম পানীয় সন্ধ্যার দিকে এক কাপ আদা ও ছোট্ট এক টুকরো দারচিনি দিয়ে গরম পানি খান। শরীর গরম রাখে, হজম ভালো হয় এবং রাতে আরাম হয়।
৩. কামিনী ফুলের চা (Chamomile Tea) শান্তির জন্য দাদি-নানিরা যে চা রাখতেন, সেটাই। ঘুমের এক ঘণ্টা আগে এক কাপ হালকা গরম কামিনী ফুলের চা খেলে শরীর ও মন দুটোই শিথিল হয়।
৪. পেয়ারা পাতার চা ৪-৫টা তাজা পেয়ারা পাতা ধুয়ে এক লিটার পানিতে ১০ মিনিট ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। হালকা স্বাদের এই চা অনেক পরিবারে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়।
মাত্র ৫ সেকেন্ডের একটি ব্যায়াম
বসে বসে করা যায়। যে মাসল দিয়ে প্রস্রাব আটকান, সেই মাসলগুলোকে ৫ সেকেন্ড শক্ত করে ধরে রাখুন, তারপর ৫ সেকেন্ড ছেড়ে দিন। দিনে ১০-১৫ বার করুন। এটি মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
পানি খাওয়ার সঠিক সময়ই আসল চাবিকাঠি
অনেকে রাতের বিরক্তি কমাতে বিকেলের পর পানি খাওয়া একদম বন্ধ করে দেন। কিন্তু এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
পানি কম খেলে প্রস্রাব ঘন ও অম্লীয় হয়ে যায়, যা মূত্রথলিকে আরও বিরক্ত করে। তাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভালো করে পানি খান। সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে কমিয়ে দিন।
শেষ কথা
প্রতিটি মানুষই শান্ত ও আরামের ঘুমের অধিকারী। বয়স যাই হোক, ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়ে অনেক কিছু উন্নত করা সম্ভব।
আপনার অভিজ্ঞতা কেমন? কমেন্টে জানান— আপনি কোন টিপসটি প্রথমে চেষ্টা করবেন?
বিঃদ্রঃ এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক। কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
এই আর্টিকেলটি ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য একদম নিরাপদ এবং আকর্ষণীয়। চাইলে হেডিং, ইমোজি ও ছবি যোগ করে আরও আকর্ষক করে নিতে পারবেন। প্রয়োজনে আরও সংক্ষিপ্ত বা লম্বা সংস্করণও দিতে পারি।

Nhận xét
Đăng nhận xét