প্রতিদিন দু’বার দাঁত ব্রাশ করছেন, ফ্লস করছেন, মাউথওয়াশ ব্যবহার করছেন। তবুও যখন কথা বলেন, নিজেরই অস্বস্তি লাগে। আশেপাশের মানুষজন একটু দূরে সরে যায় কিংবা আপনি নিজেই কথা বলতে গিয়ে সংকোচ বোধ করেন।
অনেকেরই এমন হয়। দাঁতের যত্ন নেওয়ার পরও যদি মুখের গন্ধ না কমে, তাহলে সমস্যাটা হয়তো দাঁতে নয়, আমাদের টনসিলে লুকিয়ে আছে। ছোট ছোট সাদা-হলুদ দানার মতো জিনিস — যাকে বলা হয় টনসিল স্টোন বা বলগম পাথর।
টনসিল স্টোন আসলে কী?
টনসিল স্টোন হলো খুব ছোট ছোট শক্ত হয়ে যাওয়া জমাট বাঁধা পদার্থ। এগুলো তৈরি হয় টনসিলের ভিতরের ছোট ছোট গর্তে (ক্রিপ্টে), যেখানে খাবারের কণা, মৃত কোষ, লেজা আর ব্যাকটেরিয়া আটকে যায়। সময়ের সাথে সাথে সেগুলো শক্ত হয়ে ছোট ছোট দানায় পরিণত হয়।
এগুলো দেখতে সাধারণত সাদা বা হালকা হলুদ, আকারে চালের দানা থেকে ছোট মটরের সমান হতে পারে।
কেন এতে মুখের গন্ধ হয়?
টনসিল স্টোনের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া কিছু বিশেষ গ্যাস তৈরি করে (সালফার যুক্ত), যার গন্ধ অনেকটা পচা ডিম বা টকের মতো। দাঁত যতই পরিষ্কার থাকুক, এই ছোট্ট দানাগুলো থেকে গন্ধ বেরোতেই থাকে — কথা বলার সময়, হাঁসফাঁস করার সময় বা গিলতে গেলে।
অনেকে বুঝতেই পারেন না যতক্ষণ না কাশির সাথে বেরিয়ে আসে বা আয়নায় দেখতে পান।
টনসিল স্টোনের লক্ষণগুলো কী কী?
- দাঁত ব্রাশ ও মাউথওয়াশ করার পরেও মুখের গন্ধ থেকে যাওয়া
- গলায় কিছু আটকে আছে এমন অস্বস্তি
- টনসিলে সাদা-হলুদ ছোট দাগ দেখা যাওয়া
- বারবার গলা খুসখুস করা বা হালকা ব্যথা
- কানে ব্যথা (রিফার্ড পেইন)
- মুখে অদ্ভুত ধাতব স্বাদ
এর মধ্যে দু’একটা লক্ষণ মিললে একবার খেয়াল করুন।
টনসিল স্টোন কেন হয়?
- বড় বা খাঁজকাটা টনসিল
- প্রচুর লেজা (অ্যালার্জি বা সাইনাসের কারণে)
- কম পানি খাওয়া (মুখ শুকিয়ে যাওয়া)
- বেশি দুধ-দই বা চিনিযুক্ত খাবার
- দাঁত ও জিভের যত্নে ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা
ঘরে বসে সহজে পরীক্ষা করবেন যেভাবে
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ হাঁ করে “আআআ” বলুন। জিভটা চামচ দিয়ে আলতো করে নিচে চেপে ধরুন। ভালো আলোয় টনসিল দুই পাশে দেখুন। ছোট সাদা দাগ দেখা গেলে সেটাই টনসিল স্টোন হতে পারে।
ঘরে বসে নিরাপদে যত্ন নেবেন যেভাবে (খুব আলতো করে)
- গরম পানিতে লবণ দিয়ে দিনে ৩-৪ বার কুলকুচি
- খুব হালকা প্রেশারের ওয়াটার ফ্লসার (দন্তসেচন যন্ত্র) সাবধানে ব্যবহার
- পর্যাপ্ত পানি খাওয়া
- জিভ পরিষ্কার করা
- আলতো করে নরম ব্রাশ বা কটন বাড দিয়ে (শুধু যেটা দেখা যায়)
কখনো জোর করে চাপ দিয়ে বের করবেন না — এতে গলায় আঘাত লাগতে পারে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদি বারবার সমস্যা হয়, খুব অস্বস্তি হয় বা ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ যত্নেই ভালো হয়ে যায়।
প্রতিরোধে সহজ অভ্যাস
- প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি খান
- দুধজাতীয় খাবার কমিয়ে দেখুন (যদি লেজা বেশি হয়)
- অ্যালার্জি ও সাইনাসের চিকিৎসা করান
- রাতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন
প্রায়শ্নিক প্রশ্ন
প্রশ্ন: টনসিল স্টোন কি নিজে নিজে চলে যায়? উত্তর: ছোট ছোট অনেক দানাই কাশি বা কুলকুচিতে বেরিয়ে যায়।
প্রশ্ন: এটা কি বিপজ্জনক? উত্তর: সাধারণত একদম নিরীহ, শুধু অস্বস্তি করে।
প্রশ্ন: অপারেশন লাগবে? উত্তর: খুব কম ক্ষেত্রেই।
শেষ কথা মুখের দুর্গন্ধ যদি দাঁতের যত্নেও না কমে, তাহলে টনসিলের দিকে একটু নজর দিন। ছোট একটু সচেতনতা আর সঠিক যত্নে অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আপনিও পারবেন।
বিঃদ্রঃ এই লেখাটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আর্টিকেলটি চাইলে আরও সংক্ষিপ্ত বা লম্বা করে দিতে পারি। কীভাবে চান বলুন!
.jpg)
Nhận xét
Đăng nhận xét